কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে তিনি সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গত বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি এ কথা বলেন।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি সবার আগে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন।
বুখারি বলেন, ‘ধরে নিন, আগামীকাল ইমরান খান মুক্তি পেলেন। তিনি এমন কিছু করবেন না, যা কার্যত দেশের ক্ষতি করবে।’
এসময় সামরিক নেতৃত্ব বা ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধে জড়ানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেন পিটিআইয়ের মুখপাত্র।
সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর কঠোর সমালোচনা করে আসা পিটিআইয়ের এই বক্তব্যকে সেনাবাহিনী নিয়ে দলটির সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুখারির ভাষ্য, ‘এর অর্থ এই নয় যে, আপনি ক্ষমতাকাঠামো বা সামরিক নেতার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন। নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নিতে হবে।’
পিটিআইয়ের সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের ২০২৩ সাল থেকে কারাবাসের জন্য আসিম মুনিরকে দায়ী করে আসছেন। ইমরান নিজেও এর আগে সেনাপ্রধানকে ‘মানসিকভাবে অস্থিতিশীল’ বলেছিলেন।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ইমরানের এত ঘনিষ্ঠ একজনের বক্তব্যে সুরের এই পরিবর্তন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পিটিআই হয়তো সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা যাচাই করছে। যদিও ইমরান খান নিজেও একই মত পোষণ করেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পিটিআই মুখপাত্রের এই মন্তব্যের দুদিন পর শুক্রবার ভোরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের বেসরকারি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বুখারি আদালতের ওই নির্দেশকে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে দূরে থাকার বিষয়ে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত, তা তার দল মেনে চলবে।
বুখারি জানান, পিটিআই ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।