নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে ইরান ও হিজবুল্লাহর নেতাদের সঙ্গে তুলনা করে নির্বাচনী প্রচারণার বিলবোর্ড দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তেল আবিবের কেন্দ্রীয় এলাকায় স্থাপন করা ওই বিলবোর্ডে মামদানির সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেমের ছবি রাখা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিলবোর্ডে লিকুদ পার্টির লোগোর পাশে লেখা হয়েছে, ‘তারা নেতানিয়াহুকে হারাতে চায়... তাদের জিততে দেবেন না।’
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট জুলাইয়ে ভেঙে দেওয়ার পর অক্টোবরের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে নিজের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোটকে ক্ষমতায় রাখতে ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন নেতানিয়াহু।
মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কঠোর সমালোচক মামদানি। গত মাসে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র করেন তিনি। মামদানি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর দ্য হেগে (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অবস্থান) থাকা উচিত।’
নিউইয়র্কে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহু যোগ দিতে গেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানান নিউইয়র্কের মেয়র। এর জবাবে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়া’ ও তার শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর অভিযোগ তোলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সমর্থন মামদানির সঙ্গে থাকা প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর তুলনায় মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়।
নির্বাচনের জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু রোববার (১৬ আগস্ট) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে ওই বিলবোর্ডের ছবি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মামদানির তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলার বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেন।
তবে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের বিলবোর্ডে নিজের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি মামদানি।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আলোচনাও থমকে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার সোমবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলছে, হামাসকে আগে অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যকে ‘ব্রিটেনের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাজ্যকে ‘পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনকারী প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ঘিরে কট্টর ডানপন্থিদের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে সমালোচনা হয়েছে।