সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে এ বিষয়ে জানান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী।
বাংলাদেশের বিস্তৃত সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় এলাকা, বন্দর, নৌপথ ও ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনের আওতায় বাংলাদেশের দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়নেও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রশাসন হিসেবে জাহাজের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাহাজ থেকে সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধের দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দেশের সামুদ্রিক এলাকায় আইন প্রয়োগসহ বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করে।
দুই প্রতিষ্ঠান পৃথক মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং তাদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি ভিন্ন হলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কার্যক্রমের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সমন্বয় আরও কার্যকর করতেই সমঝোতা স্মারকটি করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমন্বয়, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কারিগরি তথ্য বিনিময়, আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার বাধ্যতামূলক বিধিবিধানের সংশোধনী বাস্তবায়নে সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ থেকে দূষণ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা, যৌথ সভা ও প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম এবং জরুরি মহড়ার আয়োজনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণেও দুই প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতা করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে জীবন রক্ষার নিরাপত্তা, জাহাজ থেকে দূষণ প্রতিরোধ, বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা এবং সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে নীতিমালা প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, তথ্য বিনিময় ও জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত সাড়াদান প্রয়োজন। এ সমঝোতা স্মারক এসব ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে।
এর ফলে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি প্রতিরোধ, দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদান, সামুদ্রিক পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা জোরদার এবং সমুদ্রে জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে নিয়মিত বিধিবিধান পর্যালোচনা, সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রম বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি হালনাগাদের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক শুধু একটি প্রশাসনিক দলিল নয়; বরং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মাঠপর্যায়ের আইন প্রয়োগ ও অপারেশনাল সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করবে। নিয়মিত যোগাযোগ, তথ্য বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।