মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে মহারাষ্ট্রে দুই দিনব্যাপী কৌশলগত বৈঠক শুরু করতে যাচ্ছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
আজ বুধবার ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস, মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর এবং সংগঠনটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমকে সিজেপি নেতৃত্ব জানায়, বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্দোলন পর্যালোচনা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার ওপর মূল নজর দেওয়া হবে।
তরুণদের সংগঠনটি দিল্লির যন্তর মন্তরে গত মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, যার পরিণতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
সংগঠনটি এখন কীভাবে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং পরিধি আরও বাড়াবে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা ‘আপাতত নেই’
সিজেপি নেতৃত্ব আপাতত নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, প্রথাগত রাজনৈতিক দল হওয়ার চেয়ে সর্বাত্মক তৃণমূল আন্দোলন গড়ে তোলাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হবে, ককরোচ জনতা পার্টির এজেন্ডা তৈরি করা এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে যে সামাজিক আন্দোলন হয়েছে, তাকে আমরা কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করা।’
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা জানান, আন্দোলনে জেন-জি কোন কোন সামাজিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, তা নিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হবে।
‘আমাদের মুখপাত্র ও আন্দোলন পরিচালনাকারীরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। তবে আপাতত রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই,’ বলেন সিজেপি নেতা।
তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারে জোর
সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, দুই দিনের এই বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন সফল হওয়ার পর এর পরবর্তী গন্তব্য কী হবে, এ নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি।
‘বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব এবং কীভাবে আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবব। আগামীকাল বৃহস্পতিবার যখন আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় পৌঁছাতে পারব, তখন ভবিষ্যৎ কৌশল সবার সামনে তুলে ধরব।’
সৌরভ আবারও জোর দিয়ে বলেন, সিজেপি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে নয়; বরং একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবেই দেখে।
তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগের সমাধান আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন নয়। এর জন্য প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে গণজাগরণ। আর সেই কাজটিই করছে সিজেপি।’
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানান, ভারতের প্রতিটি জেলায় কর্মী নিয়ে একটি তৃণমূলভিত্তিক সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আমরা যেসব বিষয় তুলে ধরতে চাই, সেগুলোর সবই তরুণদের ঘিরে।
‘আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, কারণ সেখানকার মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হন, অথচ তাদের কথা শোনার কেউ থাকে না।’