যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গুরুতর অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
জুনে আদালতের পরিচালনাকারী সংস্থা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর গতকাল শুক্রবার সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভোটের মাধ্যমে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো এদিন এক নজিরবিহীন ভোটে ব্রিটিশ প্রসিকিউটর করিম খানকে অপসারণ করে। অভিযোগ প্রথম ওঠার প্রায় দুই বছর পর এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আদালতটির জন্য বিব্রতকর এক অধ্যায়ের অবসান হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়।
আইসিসিতে করিম খানের অধীনে কর্মরত এক নারী কর্মীর করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়ার পর এ ভোট হয়।
করিম খান বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বলপ্রয়োগ এবং সম্মতিহীন যৌন আচরণের অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে তার আইনজীবীরা শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়াটিকে ‘প্রক্রিয়াগতভাবে অন্যায্য’ বলে সমালোচনা করেছেন।
ভোটের প্রতিক্রিয়ায় তারা জানান, এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতা চ্যালেঞ্জ করতে সব ধরনের আইনি পথ অনুসরণ করবেন করিম খান।
খ্যাতনামা এই ব্রিটিশ আইনজীবী ২০২১ সালে আইসিসির প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধান হিসেবে নয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন।
এ বিভাগের দায়িত্ব যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও অন্যান্য নৃশংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা এবং বিচারের আওতায় আনা।
তার দায়িত্বকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন আইসিসিকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে আসে এবং আদালতকে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর তীব্র নজরদারির মুখে ফেলে।
তবে বিচারকদের জারি করা ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলোর ওপর করিম খানের এই অপসারণের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।