লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এই তিন নেতা এক হলে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। তখন সরকার পালানোর কোনো পথ পাবে না।’
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, ‘এই তিন নেতা একজোট হলে তারা যেকোনো সময় ঢাকায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হবেন। টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরের সড়ক একযোগে অবরোধ করে দিতে পারবেন। তখন আপনি কোন দিকে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করুন।’
বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতা ও অনিয়মের কঠোর সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং নিত্যপণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আপনার দলের লোকেরা উল্টো দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলো পাহারা দিচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এলডিপিপ্রধান বলেন, একই ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না—এই প্রস্তাব ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। আপনি বিএনপির একক প্রধানমন্ত্রী না হয়ে গোটা দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হন।
জনগণের দাবি না মানলে আন্দোলনের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে ভবিষ্যতে এক দফা, এক দাবি এই সরকার কবে যাবি’ কর্মসূচি ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব মো. আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ফুয়াদ, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেটের চার জেলা থেকে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে।