জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এখন যারা সরকার গঠন করেছেন তারাও একসময় মজলুম ছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন যে, সেই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সর্বক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে চাচ্ছেন। আমরা এটা মানবো না। আমরা হাসিনা তাড়িয়েছি, আপনারা যদি ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তবে জনগণ আপনাদেরকেও তাড়াবে।’
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমাবেশে প্রধান অতিরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেটের আঞ্চলিক বঞ্চনা ও উন্নয়ন দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের মানুষ জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে লড়েছিলেন। কিন্তু সেই সিলেটের কিছু ন্যায্য দাবি যুগ যুগ ধরে ঝুলে আছে, বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে নামে মাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে, এখনো তা পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। এই সমাবেশ থেকে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন।’
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউ উপলব্ধি করার জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার দরকার নেই, ঢাকা থেকে সিলেট আসলেই তা বোঝা যাবে।’
সিলেটের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, এখানে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হবে। টেকনিক্যাল কলেজটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন? এটাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে প্রাণ দেওয়া হোক। এছাড়া সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে এটাকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হোক।’
বর্তমান প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সিলেটবাসীর আরও অনেক দাবি রয়েছে। আমরা জানি না আমরা কার কাছে এসব দাবি করছি। আর আদৌও তারা এসব দাবি বাস্তবায়ন করবে কিনা।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ ও গণভোটের দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই বিভাগীয় সমাবেশ আমাদের শেষ সমাবেশ। সারা বাংলাদেশ আমরা ঘুরেছি; সবখানের মানুষের একই দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন আমরা সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব মো. আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ফুয়াদ, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেটের চার জেলা থেকে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে।