শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (২৬ জুলাই) তিনি বঙ্গভবন ছাড়বেন। প্রায় তিন বছর চার মাস পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠবেন। এরপর শিগগিরই তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সাবেক রাষ্ট্রপতি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন জানান, চিকিৎসার জন্য শিগগিরই সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ থাকায় তাকেও সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ার পর তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের জটিল রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন। এর কারণে মাঝে-মধ্যে অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।
বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হচ্ছিল। একই সঙ্গে গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজও শেষ হয়েছে বলে জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের পর এবার বঙ্গভবন ছাড়ছেন তিনি।
এদিকে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিধান অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।