ফিলিস্তিনের গাজায় একটি জানাজায় অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মধ্য গাজায় চালানো এই হামলায় আট জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে গাজার অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ছয় জন।
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির নয় মাস পার হলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে চলেছে।
গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, গত শুক্রবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় বেসামরিক নাগরিকেরা জড়ো হন। সেসময় তাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আট জন নিহত হন।
আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই ঘটনায় কমপক্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শুক্রবার আগের একটি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন শোকাহত মানুষ। সেসময় তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাটি চালানো হয়।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। জানাজায় অংশ নেওয়া লোকজন যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ড্রোন হামলা চালানো হয়।’
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে।
সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী' দলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে যে দাবি উঠেছে, সে বিষয়ে তারা অবগত। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘এই জঘন্য অপরাধ এমন সময়ে ঘটানো হলো, যখন দখলদাররা গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ক্রমাগতভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে।
‘মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনেই তারা নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আতঙ্কিত করার এই ধারা বজায় রেখেছে।’