ইউক্রেনের হামলার জেরে পেট্রোল পাম্প বন্ধ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অধিকৃত ক্রিমিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে রাশিয়া নিযুক্ত প্রশাসন। ক্রিমিয়ার তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের তীব্র বিমান হামলা উপদ্বীপটিকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যটন শিল্প এবং শিশুদের সামার ক্যাম্প (গ্রীষ্মকালীন শিবির) স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
ক্রিমিয়ার মস্কো নিযুক্ত গভর্নর সের্গেই আকসিয়োনভ মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র ও সেভাস্তোপল শহরে আঞ্চলিক পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডিক্রিতে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘এই জরুরি অবস্থার ফলে সব খাতের স্থিতিশীল কার্যক্রম নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।’
অন্যদিকে কিয়েভ এই অভিযানকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোতে মস্কোর চালানো হামলার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন দিয়ে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। মনে হচ্ছে, খুব শিগগিরই ক্রিমিয়া কার্যত একটি দ্বীপে পরিণত হবে।’
গত বৃহস্পতিবার গভর্নর আকসিয়োনভ স্বীকার করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারছি না। তবে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইউক্রেনের উপর্যুপরি হামলায় রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে সংযোগকারী প্রধান পথ কার্চ ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এই সেতু দিয়ে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি ও মালপত্র পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় মস্কো।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। তবে মস্কোর মিত্র দেশগুলোসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এই দখলকে স্বীকৃতি দেয়নি।
ইউক্রেন কখনোই এই রুশ দখলদারিত্ব মেনে নেয়নি এবং উপদ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য করে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তাদের উদ্দেশ্য, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ক্রেমলিনের আয়ের প্রধান উৎসগুলো দুর্বল করে দেওয়া।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অভিযান আরও তীব্র হয়।