ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়াল চারে। একই সঙ্গে ফ্রান্সজুড়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে।
এদিকে ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ এবার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৫ কোটি মানুষকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এবারের তাপপ্রবাহ ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র ও বিস্তীর্ণ। এতে ইউরোপের ৮৫০টি বড় শহরের প্রায় অর্ধেকই নজিরবিহীন উষ্ণতার কবলে পড়েছে।
তাদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই চরম আবহাওয়ায় ভূমিকা রাখছে।
গতকাল শুক্রবার ফ্রান্সের মার্সেইয়ের একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গাড়ির ভেতর অতিরিক্ত গরমে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় একটি ১৮ মাস বয়সী শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
একটি পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো জানিয়েছে, ওই এলাকায় কর্মরত শিশুটির বাবা তাকে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে নামিয়ে দেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে সম্ভবত গাড়ির ভেতরেই রেখে চলে গিয়েছিলেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্যারিসের শহরতলিতে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে নিজে গাড়িতে ওঠার পর চাইল্ড লক সচল হয়ে যাওয়ায় ভেতরেই আটকা পড়েছিল।
এছাড়া একটি আবাসিক পার্কিং লটে গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী আরও দুটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি শুক্রবার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে; যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৪০ জন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সইনফোকে তিনি বলেন, ‘গতকাল রাত পর্যন্ত এই সংখ্যা ৫৫ ছিল। তবে আমরা আশঙ্কা করছি, পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো জুনের তীব্র গরমের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এদিন সাফোকের স্যান্টন ডাউনহ্যামে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।