হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের হামলার ‘জবাবে’ গতকাল শুক্রবার রাতে অঞ্চলটিতে থাকা ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে আঘাত হেনেছে।
‘বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর এই অযাচিত আগ্রাসন স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।’
শুক্রবার রাতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হামলার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে সেন্টকম।
তবে এই হামলার অর্থ এই নয়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে; পরিস্থিতি আপাতত তেমন নয় বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার ‘জবাবে’ তারা ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
অবশ্য মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত এই পাল্টা হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রধান ভূমিকা পালনকারী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সন্ধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
সেন্টকমের বিবৃতিটির সঙ্গে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং আমরা তা মেনে চলেছি। এই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে যদি তাদের কোনো দ্বিমত থাকে, তাহলে তারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারত। সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।’
এর আগে শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলাকে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ দুটি ফের বড় কোনো সংঘাতে জড়াবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।