ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় সফরে আজ মঙ্গলবার ইসলামাবাদ যাচ্ছেন, যা একদিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, অন্যদিকে তার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক লক্ষ্যের স্পষ্ট বার্তা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এটিই পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনার প্রথম পর্বে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার একদিন পরই আজ এই সফরে যাচ্ছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
আল জাজিরা বলছে, এই সফরের সময় নির্ধারণ মোটেও কাকতালীয় নয়। মূলত নিজের শাসনামলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পরই ইসলামাবাদে পা রাখছেন পেজেশকিয়ান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা স্মারকও ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজনের মুখে; যেমনটি ২০১৫ সালে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) আলোচনার সময় দেখা গিয়েছিল।
২০১৫ সালের জেসিপিওএ ছিল ইরান এবং বিশ্বের ছয় পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি।
চুক্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল।
তবে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক রেজা খানজাদেহ আল জাজিরাকে বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পরপরই পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর আমাদের এটাই স্পষ্ট করে, ভঙ্গুর এই সমঝোতাকে রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপান্তর করা তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এবং তা করতে হবে দেশের অভ্যন্তরে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে, আঞ্চলিক পর্যায়ে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।’
‘এই সফরের প্রয়োজনীয়তা পাকিস্তানের চেয়ে পেজেশকিয়ানের নিজেরই বেশি,’ যোগ করেন এই অধ্যাপক।
সফরকালে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (যিনি সুইজারল্যান্ডে আলোচনার মধ্যস্থতা করেছিলেন) এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এই সফরে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।