স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) অনুমতিপ্রার্থী অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, গত সপ্তাহে দেওয়া এমন এক ঘোষণা শুক্রবার (২৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে।
বিভাগটি জানিয়েছে, এটি নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন নয়; কেবল কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে দেশে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
এই ব্যাখ্যাকে গত সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) প্রকাশিত ঘোষণার আংশিক সংশোধন হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করতে পারেন।
তবে গত সপ্তাহের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘ব্যতিক্রমী’ পরিস্থিতি ছাড়া আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
শুক্রবার ডিএইচএস দাবি করে, এটি সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো নতুন নিয়ম নয়। কোনো আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশে ফিরে যেতে হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পৃথকভাবে অভিবাসন কর্মকর্তারাই নেবেন।
বিভাগটির এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, কর্মকর্তাদের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আগেও ছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের আগে থেকেই ছিল।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মুখপাত্র ইঙ্গিত দেন, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকেরা মার্কিন সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারেন।
এই ব্যাখ্যা গত সপ্তাহের ঘোষণার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করলেও এতে বিভ্রান্তি বা উদ্বেগ খুব একটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে না।
কারণ কারা এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হতে পারেন এবং কীভাবে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এমনকি গত সপ্তাহে যখন পরিবর্তনটি প্রথম প্রকাশ করা হয়, তখন খোদ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তাও এর পরিধি বা প্রভাব নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তি আকারে এটি ঘোষণা করা হলেও হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই সপ্তাহে জানিয়েছেন, উদ্যোগটি মূলত অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমন্বয়ের অংশ ছিল, কোনো কৌশলগত পরিবর্তন নয়।
অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এই তথ্য দেন।
এদিকে কয়েকজন অভিবাসন আইনজীবী জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তাদের মক্কেলদের কাছে এরই মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কর্মকর্তারা জানতে চেয়েছেন, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো বাধা আছে কি না।
মধ্য-বাম ধারার গবেষণা সংস্থা থার্ড ওয়ের সামাজিক নীতি বিভাগের প্রধান এবং ইউএসসিআইএসের সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, ‘জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রশাসন স্পষ্টতই তাদের নিজেদের তৈরি করা বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।’
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিন কার্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদন অনুমোদিত হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেশটিতে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দেয়।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকে নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় বা স্বামী-স্ত্রীর মতো নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে এ আবেদন করেন।
স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া গ্রিন কার্ডধারীদের যাবতীয় তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয় এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
পরবর্তীতে তাদের নির্দিষ্ট সময় পরপর এই গ্রিন কার্ড নবায়ন করতে হয় এবং একটা সময় পর তারা নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারেন।