কেনিয়ায় একটি মেয়েদের স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আট শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গিলগিল এলাকার উতুমিশি গার্লস অ্যাকাডেমিতে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত একটি ছাত্রীনিবাসের ওপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ১৩৫টি দ্বিতল বিছানা ছিল।
কেনিয়ার ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস পরদিন শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই স্কুলের আট ছাত্রীকে এই অগ্নিকাণ্ডের ‘পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এখনো চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনার পর যেসব শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গিয়েছিল, তাদের শনাক্ত করে স্কুলে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা স্কুলের আশেপাশের এলাকাতে অবস্থান করছিল, তাদেরও খুঁজে বের করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী গোয়েন্দারা এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে যে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে স্কুলে ডেকে পাঠিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার হওয়া এই আটজন তাদের মধ্যে আছে।
কেনিয়ায় স্কুলের ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক ইতিহাস রয়েছে। দুই বছর আগেও মধ্য কেনিয়ার একটি ছাত্রাবাসে আগুনে পুড়ে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়।
আবাসিক স্কুলগুলোতে ঘটা এসব অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগই ইচ্ছাকৃত বা পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ফল। স্কুলের কঠোর শৃঙ্খলা এবং আবাসনব্যবস্থার ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাই সাধারণত এর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।