ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বর্তমানে হামাসকে চারপাশ থেকে চেপে ধরেছি। আপনারা জানেন, এখন গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগে এটি ৫০ শতাংশ ছিল, যা পরে আমরা ৬০ শতাংশে উন্নীত করেছি। আমার পরবর্তী নির্দেশ হলো...’
এ পর্যায়ে তিনি কিছুটা থামলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে একজন বলে ওঠেন, ‘১০০ শতাংশ’।
প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আসুন আমরা ধাপে ধাপে এগোই। প্রথমে ৭০ শতাংশ। এটা দিয়েই শুরু করা যাক। আমরা তাদের সবদিক থেকে কোণঠাসা করছি। বাকিদেরও সমূলে নির্মূল করব।’
বিবিসি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পদক্ষেপ ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলের হামলায়।
গত বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, তার দেশ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া প্রত্যেককে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, হামাস গাজায় কোনোভাবেই বেসামরিক বা সামরিক শাসন চালাতে পারবে না।’
২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বাধীন সেই হামলায় প্রায় ১ হাজার মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সিংহভাগ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ২১ লাখ বাসিন্দার বড় অংশ বাস্তুচ্যুত হন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২১ হাজার ২৮৩ জনই শিশু।