সিএনএনের প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে এই চুক্তিকে পর্দার আড়ালে ‘বাজে সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
নেতানিয়াহু জনসম্মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করা এড়িয়ে চললেও দুটি ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারণ ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে নিজের সীমিত প্রভাবের কথা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় স্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের মতো ইসরায়েলের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলো উপেক্ষিতই থেকে যাবে।
পাশাপাশি ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনা ও উত্তর সীমান্তের বসতিগুলো লক্ষ্য করে প্রতিদিন ড্রোন ও চালকবিহীন বিমান হামলা তীব্রতর করছে হিজবুল্লাহ।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ক্ষমতাসীন জোটের মিত্র উভয় পক্ষ থেকেই তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান এবং আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে হটাতে মাঠে নামা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট পুরো পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘এটি ইসরায়েলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক অন্যায্য যুদ্ধবিরতি, যা আমাদের উত্তর সীমান্তের বাসিন্দা এবং সেনাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী রাজনৈতিক মিত্র এবং মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ আরও আগ্রাসী সামরিক জবাবের দাবি জানিয়েছেন।
বেন গভির সরাসরি ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়ে ‘ইসরায়েল রাষ্ট্র এটি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না, তা পরিষ্কার করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে স্মোট্রিচ যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ‘কৌশলগত হুমকির জবাব শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়ে দেওয়া যায় না, বরং নিয়ম ও সমীকরণ বদলে দিতে হয়।’
স্মোট্রিচ বলেন, ‘হিজবুল্লাহর প্রতিটি বিস্ফোরক ড্রোনের জবাবে বৈরুতের ১০টি করে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া উচিত।’
চারপাশ থেকে আসা এমন তীব্র সমালোচনার মুখে সোমবার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। হিজবুল্লাহর ব্যাপক ড্রোন হামলার পর দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি লেবাননে আইডিএফের হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের আঘাতের মাত্রা ও তীব্রতা আরও বাড়াতে হবে। আমরা তাদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানব।’