বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের একটি ক্ষীণ আশা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের এই আবহের মধ্যেই সারাবিশ্বে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে এবং বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের পাঠানো একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। যদিও এই প্রস্তাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওভালের অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খুব দ্রুতই এই সংকটের অবসান ঘটবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল এবং এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেও এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাফল্য আসেনি। বিশেষ করে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেটির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুই দেশ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে এখন দরকষাকষি চলছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে ও পরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সংসদীয় কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত হওয়ার চেয়ে মার্কিনদের একটি ‘ইচ্ছে তালিকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপহাস করে লিখেছেন যে, আমেরিকার এই ধরনের কূটনীতিক কৌশল সফল হবে না।
শান্তি আলোচনার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে এবং বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে পর্দার আড়লে কিছু জটিলতাও রয়েছে।
এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্পকে হঠাৎ করেই নৌ-অভিযান স্থগিত করতে হয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত এই সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবটি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিতে রূপ নেয় কি না, তা দেখার জন্য এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। অনেকে আশাবাদ প্রকাশ করে বলছেন, টানেলের শেষ মাথায় তবুও তো একটা আলোর রেখা দেখা দিয়েছে। এটাও কম কীসে?
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা