ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘বিরাট অগ্রগতি’ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নির্দেশনা সংক্রান্ত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের সঙ্গে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা।
এদিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউস এই এক পাতার সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার একটি রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে, যা এতদিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা ছিল।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এই সমঝোতা স্মারকের মূল পয়েন্টগুলোর ওপর আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।
যদিও এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো কিছু স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষ আলোচনার এই পর্যায়ে এর আগে পৌঁছাতে পারেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনিয়মিত হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বজায় থাকলেও একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই পক্ষ এক পাতার সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
সূত্রটি অ্যাক্সিওসের তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, ‘আমরা এটি খুব শিগগিরই শেষ করব। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছে আছি।’
চুক্তিতে কী থাকছে
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে।
আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
>ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে সম্মত হবে।
>যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
>ওয়াশিংটনে আটকে থাকা ইরানের কোটি কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করা হবে।
>হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে দুই দেশই সম্মত হবে।
তবে প্রতিবেদনে যোগ করা হয়, সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলো বিষয়ই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। এর অর্থ হলো, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় অথবা সংঘাত বন্ধ হলেও অঞ্চলের মূল সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘোষণা করা হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
প্রস্তাবিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাত বন্ধ হবে এবং পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ দিনের একটি পথ উন্মোচিত হবে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই চুক্তির মাধ্যমে সেখানে নৌ-চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া এবং ইরানি তহবিল ছাড় পাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।