এখন কি আর শোনা হয় বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ও ডোমনি? বাতাসে ভেসে বেড়ায় একতারা, দোতারা, বাঁশির সুর? কিন্তু এক সময় গ্রামের মেলা মানেই ছিল পালা গানের মঞ্চ, আর গানের তালে তালে গ্রামের সহজ সরল মানুষের উল্লাস। বাউল গানের ভেতরই উচ্চারিত হতো প্রেম, ত্যাগ, ভক্তি আর মানবতার শাশ্বত বার্তা। রাতভর চলত এই গান, ঢোলের ধ্বনি কাঁপিয়ে দিত আকাশ-বাতাস। কিন্তু এখন সেই সুর নীরব।
এখন আর বাংলার মাটি, জল, বাতাসে একতারা, দোতারা, বাঁশির সুর ভেসে বেড়ায় না। এখন আর গ্রামে গ্রামে বসে না পালা গানের আসর। আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য। ইউটিউব, ডিজে, আধুনিক পপ সংস্কৃতি গ্রামীণ আসরের জায়গা দখল করেছে। এখন আর গ্রামে মেলা মানেই লোকগান নয়; বরং সাউন্ডবক্সে বাজে বিদেশি গান।
সোহাগ মিয়া নামের এক বাউল শিল্পী বলেন, “তরুণ প্রজন্মের আগ্রহে যে শূন্যতা দেখা দিয়েছে, তা সবচেয়ে ভয়াবহ। এখনকার যুবসমাজ আধুনিক সংগীতেই সীমাবদ্ধ, তারা জানেই না ‘মলুয়া সুন্দরী’বা ‘ধনপতি-সীতারাম’ কী গল্প বহন করে। লোকগানের শিক্ষাগত, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তারা অনুধাবন করতে পারছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের লোকসংগীত ও বাউল সংগীতকে টিকিয়ে রাখার।”
৪০–৫০ বছরে আগেও গ্রামে লোকসংগীত, পালাগানের আয়োজন করলে অনেক স্রোতা আসতেন কিন্তু এখন আর কেউ এসব অনুষ্ঠানে আসেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আক্কেলপুর থিয়েটারের সভাপতি মো. আয়ুব মিয়া।
তিনি বলেন, “আগে লোকসংগীত, পালা গান, জারি—এসব গানের প্রতি মানুষের গভীর আগ্রহ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে তরুণ ও কিশোররা মোবাইলমুখী হওয়ার কারণে ঐতিহ্যের প্রতি সেই আগ্রহ কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি লোকসংগীতের সৌন্দর্য তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে। সরকার যদি এগিয়ে আসে, তবে হারিয়ে যেতে থাকা এই লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক লোকসংগীতকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”