ভারতের গুজরাটের ভাদোদরা শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব’ ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ‘মোদি তত্ত্ব’ নামে নতুন একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
শনিবার (২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।
গুজরাটের মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. বীরেন্দ্র সিং জানান, দুই বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ‘সোশিওলজি অব প্যাট্রিওটিজম’ নামে এই নতুন কোর্স চালু করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ‘মোদি তত্ত্ব’ এবং মারাঠা রাজা ছত্রপতি শিবাজি ও সায়াজিরাও গায়কোয়াড়ের মতো সমাজ সংস্কারকদের কাজ বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা।
বীরেন্দ্র সিং বলেন, ‘আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, রাজনীতি ও নেতৃত্বের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে আপনাকে কথা বলতেই হবে। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি দীর্ঘকাল প্রাসঙ্গিক থাকবেন। আমরা সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ তত্ত্বটি নিয়ে অধ্যয়ন করতে চাই, যা মহাত্মা গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিংয়ের মধ্যে দেখা গিয়েছিল। একই ধরনের নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যেও দৃশ্যমান। এটি একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়, যা নিয়ে পড়াশোনা করা প্রয়োজন।’
এই অধ্যাপক জানান, ‘মোদি তত্ত্ব’ বিষয়টিতে মিডিয়া ও ডিজিটাল জাতীয়তাবাদ, নাগরিকত্ব ও ভিন্নমত এবং বিশ্বায়ন ও পরিচয়ের রাজনীতির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। এই তিনটি অংশ বৈজ্ঞানিকভাবে ‘মোদি তত্ত্ব’-এর ধারণা নিয়ে কাজ করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কেন এত বিখ্যাত হয়ে উঠছেন, কেন তার গ্রহণযোগ্যতা এত ব্যাপক এবং দীর্ঘতম শাসনকালেও তার জনপ্রিয়তার রহস্য কী, এই গবেষণায় তা উঠে আসবে।