ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ‘সিংহভাগ সম্ভবত এখনও’ দেশটির ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রেই রয়েছে। গত বছর ও এ বছরের যুদ্ধে দফায় দফায় বিমান হামলার শিকার হওয়া এই কেন্দ্র নিয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি।
এপিকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান গ্রোসি জানান, ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বোঝার মতো স্যাটেলাইট চিত্র তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছেন।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে ইসফাহানে আইএইএর পরিদর্শন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়েছিল।
গ্রোসি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধের সময় সেখানেই মজুত ছিল এবং তা এখনও সেখানেই রয়েছে।’
এই পরমাণু বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করতে পারিনি। আবার মজুত ইউরেনিয়ামের ওপর বসানো আমাদের সিলগুলো অক্ষত আছে কি না, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমি আশা করি, আমরা সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাব। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যা তথ্য আছে, তার ভিত্তিতে এটাই আমাদের সেরা অনুমান।’
২০২৫ সালের ৯ জুন যুদ্ধের ঠিক আগে এয়ারবাস স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, ১৮টি নীল কন্টেইনার বোঝাই একটি ট্রাক ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারের একটি টানেলে প্রবেশ করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই কন্টেইনারগুলোতে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল।
গ্রোসি মনে করেন, ইরানের উচিত নাতাঞ্জ ও ফরদোসহ তাদের সব পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া।
আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। কারিগরিভাবে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির খুব কাছাকাছি।
গ্রোসি মনে করেন, এর মধ্যে প্রায় ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম ইসফাহানের সুড়ঙ্গে মজুত থাকতে পারে।
গত বছর তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এই মজুত দিয়ে তারা কমপক্ষে ১০টি বোমা বানাতে সক্ষম হবে।
যদিও তেহরান দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছে, তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।