জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে আগামী ১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আমিরাতের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে দেশটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে চায়। আমিরাত কেবল ওপেক নয়, রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত ওপেক প্লাস থেকেও বেরিয়ে যাচ্ছে।’
আমিরাতের এই পদক্ষেপ জোটের নেতৃত্ব দেওয়া সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ওপেক বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে নিজেদের উৎপাদন নীতি সমন্বয় করে। বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের ৩৬ শতাংশই আসে এই জোট থেকে। বিশ্বের তেল মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ এই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে।
এদিন আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সুহেইল আল মাজরুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাজারের দীর্ঘমেয়াদী মৌলিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নেওয়া সুচিন্তিত নীতি। আমরা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করে যাব।’
এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আমিরাত ওপেকের কাছে তেল উৎপাদনের সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। দেশটি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ওপেকের নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি তেল উৎপাদনে আগ্রহী।
১৯৬০ সালে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, ভেনেজুয়েলা ও কুয়েত মিলে এই জোট গঠন করে। সাত বছর পর এতে যোগ দেয় আমিরাত।
বর্তমানে আমিরাত বিশ্বের শীর্ষ ১০টি তেল উৎপাদনকারী দেশের একটি। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ তারা একাই উৎপাদন করে।