মধ্যপ্রাচ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারকে পাঠাচ্ছেন।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইরান-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঠিক একদিন পর ইসলামাবাদে এই বৈঠক হচ্ছে।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার আপাত কোনো সমাপ্তি এখনও দেখা যাচ্ছে না।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের দূতেরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সরাসরি আলোচনার বিষয়টি আপাতত তাদের পরিকল্পনায় নেই।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এদিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন দুই প্রতিনিধি আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, ফলপ্রসূ আলোচনা হবে, যা চুক্তির দিকে আমাদের একধাপ এগিয়ে নেবে।’
এবারের আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স না থাকলেও পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন লেভিট।
এদিকে ইরানের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পাকিস্তান সফর শেষে আরাগচি ওমান ও রাশিয়া সফরে যাবেন এবং সেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় এটি ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠক।
এর আগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদের কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয়। তেহরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ছিল আলোচনার প্রধান তিন অমীমাংসিত বিষয়।
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে তাদের অধিকার হিসেবে দাবি করলেও এর মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি