খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম-এর বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদান আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি পেলো।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ‘দ্য ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল অব ২০২৬’ শীর্ষক তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন। তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রভৃতি প্রভাবশালী নেতাদের পাশেই রয়েছে তারেক রহমানের নাম।
তারেক রহমান সম্পর্কে টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগেও তাকালে দেখা যায়, তারেক রহমান লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমের শান্ত এলাকায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন নির্ভারভাবে।
কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ৫৭ বছর বয়সি এই রাজনীতিককে বিরোধী আন্দোলনের নেতা থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত করে—যে অবস্থান তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ফেব্রুয়ারিতে বিশাল নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেন।
এই বিজয়ের মাধ্যমে রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেন, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়।
জানুয়ারিতে টাইম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রহমান তখনও শোকাহত ছিলেন। তবে তিনি জানান, এই শোককে তিনি দেশের ১৭ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে লাগাতে চান এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবার সচল করতে চান।
এতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুব বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির মতো সমস্যায় জর্জরিত—যেগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
২০০০ দশকের দুর্নীতির অভিযোগ (যদিও পরে আদালতে খারিজ হয়েছে) তার জন্য স্বাভাবিক ‘হানিমুন পিরিয়ড’কে সংক্ষিপ্ত করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না। তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পেতে পারে।’