ইরানের একটি কারাগারে বন্দি ছিলেন ৫০ দিন। বন্দিদশা শেষে ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখে তাকে একটি হোটেলে নেওয়া হয়। কথা ছিল, পরের দিনই তিনি ভারতে ফিরবেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। সেদিনই ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বাড়ি ফেরার আগে আরও ২৫ দিন তাকে হোটেলে আটকে থাকতে হয়।
দিল্লির অদূরে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা কেতন মেহতা বুধবার (১ এপ্রিল) এনডিটিভির সাংবাদিক রবীশ রঞ্জন শুক্লার কাছে ইরান থেকে তার রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা এভাবেই তুলে ধরেন।
কেতন বলেন, ‘আমরা যখন কারাগার থেকে বের হয়ে হোটেলে উঠি, তখন আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে, যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। ঠিক তার পরদিনই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। আমরা পুরো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লাম। সব কিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল—এমনকি বিমানবন্দরও।’
কেতনের হোটেলটি ছিল ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস থেকে ৬০০-৭০০ মিটার দূরে। এটি ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকে ওই এলাকা ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।
কেতন বলেন, ‘দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করে। কারণ চারপাশ এরই মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। হোটেলে বসে দিনের পর দিন আমরা শুধু বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শুনেছি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে একটার পর একটা ক্ষেপণাস্ত্র পড়তে দেখতাম।’
ইরানে দিনে কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হতো—এনডিটিভির এই প্রশ্নের জবাবে কেতন বলেন, ‘১০০ থেকে ২০০টির মতো হবে।’
কেতনের দেশে ফিরে আসার যাত্রা ছিল আরও বিপজ্জনক। বন্দর আব্বাস থেকে বাসে করে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আর্মেনিয়ায় পৌঁছান। এই দীর্ঘ যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ১৮-১৯ ঘণ্টা।
কেতন বলেন, ‘পুরো পথজুড়ে পাহাড়ি এলাকা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। প্রতিটি শব্দে বাসের ভেতরটা কেঁপে উঠত। চরম আতঙ্কের ভেতর দিয়ে আমরা কোনোমতে আর্মেনিয়া সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হই।’
সেখান থেকে বিমানে করে দেশে ফেরেন তিনি।
এই প্রতিকূল সময়ে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাকে সাহস জুগিয়েছেন বলে জানান কেতন।
যে কারণে কারাগারে ছিলেন
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করে ইরানের কর্তৃপক্ষ। দুবাইভিত্তিক প্রাইম ট্যাংকার্স এলএলসি পরিচালিত ওই জাহাজে অবৈধ ডিজেল বহনের অভিযোগ আনা হয়।
যদিও কোম্পানিটি এই দাবি অস্বীকার করে।
এরপর জাহাজটিতে থাকা ১০ ভারতীয় ক্রুকে গ্রেপ্তার করে ইরানের কারাগারে পাঠানো হয়। তাদেরই একজন কেতন মেহতা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বন্দর আব্বাসের কারাগারে আটক থাকা সেই ১০ ভারতীয়র সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে।