তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে আজ সকালে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির একটি কবরস্থানে জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। উদ্দেশ্য, ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত তিন লেবানিজ সাংবাদিককে শেষ বিদায় জানানো।
গতকাল (২৮ মার্চ) দক্ষিণ লেবাননে সাংবাদিকদের বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো এই হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, নিহত আলী শোয়েব, ফাতিমা ফেতোনি এবং মোহাম্মদ ফেতোনির ছবি হাতে মৌন মিছিলে অংশ নেন শোকাতুর জনতা। নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি অনেক সাংবাদিকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তিন সাংবাদিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় হিজবুল্লাহ অধ্যুষিত দাহিয়েহ এলাকায়। কবরস্থানটির অনেক কবরের ওপর উড়ছিল হিজবুল্লাহর উজ্জ্বল হলুদ পতাকা।
হিজবুল্লাহ পরিচালিত আল-মানার টিভির প্রতিবেদক ছিলেন আলী শোয়েব। আর আল-মায়াদিন চ্যানেলের প্রতিবেদক ছিলেন ফাতিমা ফেতোনি। তার ভাই মোহাম্মদ ফেতোনি সেখানে কাজ করতেন ক্যামেরাম্যান হিসেবে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আলী শোয়েব হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ফোর্সের গোয়েন্দা ইউনিটের ‘সন্ত্রাসী’।
তবে ওই সংগঠনে তার সামরিক ভূমিকা ছিল—এমন দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) গত বছর বলেছিল, ইসরায়েল বারবার সাংবাদিকদের হত্যা করে এবং কখনও কখনও আগেই তাদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করে। কিন্তু এসব দাবির স্বপক্ষে তারা কখনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেয় না।
হামলায় ফাতিমা ফেতোনি ও মোহাম্মদ ফেতোনির মৃত্যুর বিষয়ে অবশ্য ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।