মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তেল সংকটকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। ১৯৭০-এর দশকের জোড়া তেল সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর সময়কার চেয়েও বর্তমান সংকটের প্রভাব বেশি বলে মনে করেন তিনি।
সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিরোল বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেল সংকট এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট গ্যাস ঘাটতির সম্মিলিত রূপকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে গেছে, যা আগের দুইটি তেল সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও বেশি। এই সমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হলো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।
গত ১১ মার্চ আইইএ-এর সদস্য দেশগুলো বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ে সম্মত হয়। এই ছাড় মোট মজুতের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। তবে নতুন করে তেল ছাড়ের জন্য কোনও নির্দিষ্ট মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হবে না বলে জানান বিরোল।
তিনি বলেন, ‘মজুত তেল ছাড় বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে, কিন্তু এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। এটি কেবল অর্থনীতির ওপর চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।’
বিরোল জানান, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তেল সংকটের সম্মুখভাগে থাকায় তিনি ক্যানবেরা থেকেই তার বিশ্ব সফর শুরু করেছেন। এই অঞ্চলটি তেলসহ সার ও হিলিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারকেরা সমস্যার গভীরতা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন বিরোল। তিনি জানান, কেবল মজুত তেল ছাড়ই নয়, আইইএ-এর হাতে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। যেমন, যানবাহনের গতিতে সীমা আরোপ বা ঘরে বসে কাজের ব্যবস্থা চালুর মতো উদ্যোগ ২০২২ সালে ইউরোপে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। তবে প্রতিটি দেশকে নিজস্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় নির্ধারণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকর অবরোধের মধ্যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধটির পর থেকে তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২১ মার্চ) ইরানকে প্রণালীটি থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় এই আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালালে, ইরান সেই জলপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার এবং অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে, যেটি দিয়ে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে মিত্রতাহীন অল্প কিছু জাহাজ চলাচল করত।
সূত্র: আল-জাজিরা