শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ২৯ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট; মুহূর্তটা ছিল অস্বস্তিকর। অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন, অঘটনের গল্প বুঝি লিখতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। কিন্তু পাকিস্তান শিবিরে তখন ভিন্ন পরিকল্পনা। ফাহিম আশরাফ যেন ঠিক করেই রেখেছিলেন - নাটক নয়, হবে স্বস্তির সমাপ্তি।
ভ্যান বিকের এক ওভার থেকেই তুলে নেন ২৪ রান। তাতেই সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করে পাকিস্তান।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয়। জবাবে পাকিস্তান ৩ উইকেট ও ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা। শুরুটা ভালোই করেছিল ডাচরা। প্রথম তিন ওভারে আসে ২৮ রান। তবে ৭ বলে ৫ রান করা ম্যাক্স ও’ডাউডকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন সালমান মির্জা।
অন্য ওপেনার মাইকেল লিভিট ১৫ বলে করেন ২৪ রান। ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের ব্যাট থেকে। ২৯ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কা। বাস ডি লিডিও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, ২৫ বলে ৩০ রান।
পাকিস্তানের বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন সালমান মির্জা। ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। দুটি করে উইকেট পান মোহাম্মদ নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুব।
লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন সাইম আইয়ুব। ১৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় করেন ২৪ রান। আরেক ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ছিলেন আরও দৃঢ়। ফিফটি মিস করলেও ৩১ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে পাকিস্তানকে ভালো অবস্থানে রাখেন তিনি। এরপর ইনিংস কিছুটা এলোমেলো হয়ে যায়। সালমান আলী আগা ও বাবর আজম শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। উসমান খানের ডাক আউট চাপ বাড়ায়। শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজও ব্যর্থ হন।
ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ। মাত্র ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ২৯ রানের বিধ্বংসী ক্যামিও খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটেই স্বস্তির জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন আরিয়ান দত্ত ও পল ভ্যান মেকেরেন।
ফাহিমের ব্যাটে ভর করেই চাপের ম্যাচে শেষ হাসি হাসল পাকিস্তান।