আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোহাম্মদ শামির প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন আরও দীর্ঘ হলো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে জাসপ্রিত বুমরাহর চোটে একটা বড় সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত দলে জায়গা মেলেনি অভিজ্ঞ এই পেসারের। বরং প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবী।
ভারতের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার জানিয়েছেন, শামি এখনও টেস্ট ক্রিকেট খেলার মতো পুরোপুরি ফিট নন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিংবা ধারাবাহিকতা ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রঞ্জি ট্রফির সর্বশেষ সাত ম্যাচে ১৬.৭২ গড়ে ৩৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তিনবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকারের পাশাপাশি ৯০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সেরা বোলিংও করেছেন।
অন্যদিকে, রঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন আকিব নবী। ১২.৫৬ গড়ে ৬০ উইকেট নিয়ে তিনি মৌসুমের অন্যতম সফল বোলার ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতার পুরস্কার হিসেবেই শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্রথমবারের মতো ভারতের টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন এই পেসার।
ফলে শামির সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। জাতীয় দলে ফিরতে হলে শুধু শতভাগ ফিট হলেই চলবে না, দুলীপ ট্রফিসহ আসন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে নির্বাচকদের আস্থা ফেরাতে হবে। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটে এখন তরুণ পেসাররা শুধু ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিচ্ছেন।
তবুও প্রশ্নটা থেকেই যায়, মোহাম্মদ শামির ব্যাপারে নির্বাচকরা কি জেগে-জেগেই ঘুমাচ্ছেন? এর আগে শামিকে নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলিসহ অনেকেই বিসিসিআই-এর তীব্র সমালোচনা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আর কতটা ভালো খেললে শামিকে আবার দলে নেওয়া হবে’? যেখানে অখ্যাত বোলার বা অধারাবাহিকতায় থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ মিলছে ম্যান ইন ব্লু জার্সিতে; কিন্তু মোহাম্মদ শামির নামটা সামনে আসতেই নির্বাচকরা কুলুপ এটে দেন মুখে! তাই তো প্রশ্নটা থেকেই যায়, নির্বাচকরা কি জেগে-জেগেই ঘুমাচ্ছেন?