ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ও সাবেক এসি মিলান অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। ৬৬ বছর বয়সে মারা গেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডার। মৃত্যুর খবর জানিয়েছে তার সাবেক ক্লাব এসি মিলান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, বারেসির মৃত্যুতে পুরো মিলান পরিবার শোকে মুহ্যমান। তার আদর্শ, চরিত্র ও সততা ক্লাবের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান থাকবে। একইভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে তার পরা ঐতিহাসিক ৬ নম্বর জার্সিও।
বারেসির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানায়নি এসি মিলান। ২০২৫ সালের আগস্টে ফুসফুসের টিউমার অপসারণের জন্য তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, পুরোপুরি শক্তি ফিরে পেতে তার কিছুটা সময় প্রয়োজন।
ইতালির হয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন বারেসি। যদিও ওই আসরে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেন ১৯৯০ সালে, ইতালির মাটিতে আয়োজিত সেই আসরে সুইপার ও সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, দুই ভূমিকাতেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের অলস্টার দলে।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালির অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন বারেসি। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, পরে রবার্তো বাজ্জিওর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি ইতালি।
১৯৮০ ও ১৯৮৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও ইতালি দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। তার বড় ভাই জিউসেপ্পে বারেসিও ইতালির জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৮০ সালের ইউরোতে দুই ভাই একই সঙ্গে দলে থাকলেও ফ্রাঙ্কো মাঠে নামার সুযোগ পাননি। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই ভাইয়ের একসঙ্গে ইতালির প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনা সেটিই ছিল একমাত্র।
১৯৬০ সালের মে মাসে লোম্বার্দিতে জন্ম হয় ফ্রাঙ্কো বারেসির। ১৯৭৪ সালে এসি মিলানের যুব দলে যোগ দেন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সের আগেই ১৯৭৮ সালে ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক হয় তার। এরপর পুরো ক্যারিয়ারই কাটান মিলানে এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ক্লাবটির অন্যতম বড় প্রতীক।
মাত্র ২২ বছর বয়সে মিলানের অধিনায়কত্ব পান বারেসি। দুর্দান্ত টেকনিক, প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগে থেকে বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা, নিখুঁত ট্যাকল ও অসাধারণ নেতৃত্বগুণ তাকে দ্রুতই আলাদা করে তোলে। ক্যারিয়ারের শুরুতে মিলানে তার ডাকনাম ছিল ‘পিসকিনিন’, যার অর্থ ‘ছোটজন’। পরে সুইপার হিসেবে তার অসাধারণ দক্ষতার কারণে জার্মান কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের সঙ্গে তুলনা করে তাকে ‘কাইজার ফ্রাঞ্জ’ নামেও ডাকা হতো।
মিলানের হয়ে পাওলো মালদিনি, মাউরো তাসোত্তি ও আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তার সঙ্গে মিলে শক্তিশালী এক রক্ষণভাগ গড়ে তুলেছিলেন বারেসি। তার নেতৃত্বে মিলানের ডিফেন্স একসময় ইউরোপের অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিতি পায়।
মিলানের হয়ে ৭১৯ ম্যাচ খেলে ১৯৯৭ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান বারেসি। মিলানের হয়ে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি রয়েছে কেবল পাওলো মালদিনির।
দুই দশকের বেশি সময়ের ক্লাব ক্যারিয়ারে বারেসি জিতেছেন ছয়টি ইতালিয়ান লিগ শিরোপা ও তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ, যা পরে চ্যাম্পিয়নস লিগ নামে পরিচিত হয়। ইতালি জাতীয় দলের জার্সিতে ১২ বছরের ক্যারিয়ারে ৮১ ম্যাচ খেলে করেছেন একটি গোল।
ফ্রাঙ্কো বারেসির বিদায়ে বিশ্ব ফুটবল হারাল তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারকে। এসি মিলানের হয়ে তার অবদান ও ইতালির ফুটবলে তার কীর্তি ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।