বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। এর মধ্যেই স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে ‘ঘুষি’ মারার অভিযোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। তার দাবি, ঘটনাটি ঘুষি ছিল না, বরং ধাক্কা দেওয়ার মতো একটি প্রতিক্রিয়া। তবে ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় সেটা ঘুষিই ছিল।
১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাহুয়েল মোলিনা রদ্রিকে আঘাত করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় আয়ালা ও দানি ওলমোর মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আয়ালার বিরুদ্ধে ঘুষি মারার অভিযোগ ওঠে।
তবে ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওর ‘এসপোর্তস মিগদিয়া’ অনুষ্ঠানে আয়ালা বলেন, ‘অবশ্যই আমি দুঃখিত। আমার অবস্থানের কারণে আমি এমন অনুভূতি বা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যা-ই পাই না কেন, তা আমার আচরণ বা সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে দেওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি দুঃখিত। তবে আমার কাছে এগুলো মাঠের ঘটনাই, সেখানেই শেষ হওয়া উচিত। আমার মতে, এসব পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া দরকার।’
ঘুষির অভিযোগ অস্বীকার করে আয়ালা বলেন, ‘ওটা ঘুষি ছিল না, যেমনটা বলা হচ্ছে। বরং ধাক্কা দেওয়ার মতোই বেশি ছিল। সে আমাকে কিছু বলেছিল, সেটারই প্রতিক্রিয়া ছিল। যদি আবার তার সঙ্গে দেখা হয়, অবশ্যই আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে ক্ষমা চাইব।’
পরে তিনি যোগ করেন, ‘এটা দুঃখজনক। মাঠে যা করেছি, তার দায় স্বীকার করতেই হবে।’ পাশাপাশি বলেন, ‘আমি যা করেছি, তার দায়িত্ব নিচ্ছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল গিয়ে তাদের আলাদা করা। সেটাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। কিন্তু কখনও কখনও আবেগ তীব্র হয়ে ওঠে এবং এমন ঘটনা ঘটে। তবে সেটি কোনো অজুহাত হতে পারে না। আমার অবস্থানে থেকে আমার আচরণ ভিন্ন হওয়া উচিত ছিল, অন্য পক্ষ থেকে যা-ই আসুক না কেন।’
এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্তে একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে ফিফা। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।