বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। তবে ট্রফি হারানোর হতাশার মধ্যেও লিওনেল মেসিকে ঘিরে সামনে এসেছে এমন একটি ঘটনা, যা নতুন করে আলোচনায় এনেছে তার মানবিক দিক। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোর দাবি, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশ্বকাপের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন আর্জেন্টাইন এই অধিনায়ক।
লাতোর তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের পক্ষে স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মেসি নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করেন, যাতে তারা গ্যালারি থেকে ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।
সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতো আরও জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্থিক কারণে যাদের পক্ষে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না, তাদের অনেকের জন্য নিজ খরচে টিকিট কিনেছিলেন মেসি। সেই তালিকায় ছিলেন কেপ ভের্দের গোলকিপার ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যও। মেসির উদ্যোগেই তারা স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল গ্যালারি থেকে দেখার সুযোগ পান। বিশ্বকাপ চলাকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলেও ফাইনালের পর সামনে আসে পুরো ঘটনা।
শুধু এই ঘটনাই নয়, মাঠেও ভোজিনহার প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলকিপিং করেন ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। একের পর এক সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। ম্যাচ শেষে ভোজিনহাকে আলিঙ্গন করে মেসি বলেন, ‘তুমি অসাধারণ। তোমার দেশের তোমার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’
চলতি বিশ্বকাপে মোট ১৮টি সেভ করে নিজের অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন ভোজিনহা। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাবে রূপ নেয়নি।
বিশ্বকাপের ট্রফি এবার হাতে ওঠেনি মেসির। কিন্তু প্রতিপক্ষের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও মানবিকতার জায়গায় কেন তিনি আলাদা।