বাইশের পর ছাব্বিশ, চার বছর পেরিয়ে গেলেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে বিতর্ক যেন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই একটি প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় আসে, রোনালদো কি এখনও পর্তুগালের অবিচ্ছেদ্য অংশ, নাকি দলের স্বার্থে তার ভূমিকা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে?
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। ম্যাচজুড়ে পর্তুগালের আক্রমণে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি রোনালদো। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের মধ্যে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিলেন এই মহারথী। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো কোনো মুহূর্ত উপহার দিতে পারেননি। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে পুরোনো বিতর্কের নতুন সংস্করণ।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা প্রশ্নটি হয়তো ‘রোনালদোকে বাদ দেওয়া উচিত কি না’। কারণ ৪১ বছর বয়সেও এমন একজন ফুটবলারকে পুরোপুরি বাইরে রাখার কথা ভাবা সহজ নয়। তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং গোল করার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এখনও পর্তুগালের বড় সম্পদ।
কিন্তু আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতা হলো, কোনো খেলোয়াড়ই দলের চেয়ে বড় নয়। মাঠে কার কতক্ষণ থাকা উচিত, সেটাও এখন কৌশলের অংশ। বিশেষ করে যখন বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।
একই সময়ে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, লামিন ইয়ামাল ও হ্যারি কেইন নিজেদের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন। সেই তুলনায় রোনালদোর পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা-সমালোচন্মার জন্ম দিয়েছে।
তবে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ এখনও তার অধিনায়কের ওপর আস্থা হারাননি। রোনালদোকে পুরো ম্যাচ খেলানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গোল প্রয়োজন এমন ম্যাচে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে (রোনালদো) মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’
মার্টিনেজের এই অবস্থান বুঝতে কঠিন নয়। কারণ ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রোনালদো অতীতেও অসংখ্যবার দেখিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন আরেকটি পরিসংখ্যান। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তিনি এখন টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোর মতো আসরে তার সর্বশেষ ওপেন-প্লে গোল এসেছিল ২০২১ সালের ইউরোতে ফ্রান্সের বিপক্ষে। এরপর বাছাইপর্ব বা তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে গোল করলেও বড় মঞ্চে সেই পরিচিত রোনালদোকে আর দেখা যায়নি।
সেখানেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে। রোনালদোকে একাদশে রাখা হবে কি হবে না, সেটি নয়। বরং ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে গেলে, দলের প্রয়োজন ভিন্ন কিছু দাবি করলে, তাকে কখন বিশ্রামে পাঠাতে হবে; সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস কোচের আছে কি না।
বিশ্বকাপের বাকি পথেই হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে পর্তুগাল। আর সেই উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের পরিণতি।