মাঠের বাইরের ভূরাজনীতি, মার্কিন প্রশাসনের কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আর গ্রুপ টেবিলের বাঁচা-মরার সমীকরণ; সবকিছু মিলিয়ে আজ এক উচ্চ চাপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম ও ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে এই ম্যাচটি।
গ্রুপ ‘জি’-এর প্রথম ম্যাচ শেষে চার দলেরই পয়েন্ট সমান থাকায় এই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রোমাঞ্চ। একদিকে কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের হতাশা ভুলতে চাওয়া বেলজিয়াম, অন্যদিকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে থাকা ইরান।
মিশরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের ১-১ গোলের ড্র অনেকের চোখে তাদের পরিচিত ছন্দহীনতারই পুনরাবৃত্তি। তবে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর রোমেলু লুকাকুর বদলি হিসেবে নেমে আক্রমণে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বেলজিয়াম শিবিরে। ডি ব্রুইনা, জেরেমি দোকু এবং থিবো কোর্তোয়ার মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটি যেকোনো রক্ষণ ভেঙে দিতে সক্ষম।
ফরোয়ার্ড ডোডি লুকেবাকিও বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের লক্ষ্য একটাই, তা হলো জয় লাভ করা। আমরা টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সর্বোচ্চটা দেব।’
অন্যদিকে ইরানকে লড়তে হচ্ছে মাঠের বাইরের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। মার্কিন প্রশাসনের ২৪ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে মেক্সিকোর বেস ক্যাম্প থেকে যাতায়াত করে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে তাদের। কোচ আমির ঘালেনোই এই পরিস্থিতিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করলেও মাঠের পরিকল্পনায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জিততেই চাই না, আমরা মাঠে একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ ড্র ম্যাচে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছিল ইরানের। তবে অধিনায়ক মেহেদি তারেমি ও মোহাম্মদ মোহেব্বির আক্রমণভাগের ওপর ভরসা করছে দলটি। মোহাম্মদ মোহেব্বির মতে, ‘এটিই টুর্নামেন্টে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রবেশদ্বার। নিজেদের সবটুকু বিলিয়ে দিতে হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
জয়ী দল এক লাফে নকআউটের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, আর পরাজিত দলের বিদায়ের শঙ্কাও বাড়বে। তাই মাঠের বাইরের চাপ আর ভেতরের লড়াই মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে তৈরি হয়েছে এক চরম নাটকীয় ফুটবল মঞ্চ। গ্রুপের অপর ম্যাচে ভ্যাঙ্কুভারে মুখোমুখি হবে মিসর ও নিউজিল্যান্ড।