বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে বুধবার দিবাগত রাতে টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই তারকা, হ্যারি কেইন ও লুকা মদ্রিচ। অভিজ্ঞ এই দুই ফুটবলারের পারফরম্যান্সেই নির্ভর করছে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই।
ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের জাদুকর লুকা মদ্রিচকে। তার ভাষায়, ‘মাঝমাঠে ওর মতো বৈচিত্র্যময় ফুটবলার এই বিশ্বকাপে আর নেই। বয়স যাই হোক, ক্রোয়েশিয়ার চালিকাশক্তি তিনিই।’ অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচও হ্যারি কেইনকে নিয়ে উচ্চ ধারণা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘হ্যারি কেন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে, ক্লাব ও দেশের জার্সিতে সমানভাবে উজ্জ্বল।’
কাগজে-কলমে শক্তির দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে ইংল্যান্ড। বাছাইপর্ব ও প্রস্তুতি ম্যাচ মিলিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে টুখেলের দল। আক্রমণভাগে হ্যারি কেইনের সঙ্গে জুড বেলিংহ্যাম ও বুকায়ো সাকার উপস্থিতি দলকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।
তবে একাদশ নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়েছে ইংল্যান্ড শিবিরে। নাম্বার টেন পজিশনে বেলিংহ্যামের বদলে মর্গ্যান রজার্স সুযোগ পেতে পারেন, আর উইংয়ে সাকার জায়গায় নামতে পারেন ননি মাদুয়েকে।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি অভিজ্ঞতা। ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে দলের খেলা। মাঝমাঠে তার সঙ্গে মাতেও কোভাসিচের সমন্বয়ই ক্রোয়েশিয়ার মূল ভরসা। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী মদ্রিচ বলেন, ‘আমরা ইংল্যান্ডকে সম্মান করি, কিন্তু ভয় পাই না।’
ইতিহাসও ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে কিছুটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা। এরপর গত দুই বিশ্বকাপে রানার্স-আপ ও তৃতীয় হয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছে দলটি।
সবমিলিয়ে কেইনের গোলক্ষুধা আর মদ্রিচের অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে জমে উঠতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের আরেকটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ।