চার বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ভারতের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় এই তারকা জানিয়েছেন, নেতৃত্বের চাপ একসময় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি ক্লান্ত করে ফেলেছিল।
২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারের পর আচমকাই টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন কোহলি। এর আগে টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন, আর ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। সাত বছরের নেতৃত্বে ৬৮ টেস্টে ৪০ জয় এনে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক হয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কোহলি বলেন, ‘আমি একসময় ব্যাটিং ইউনিটের মূল ভরসা আর নেতৃত্ব; দুই জায়গার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারিনি এই দুই দায়িত্ব আমার দৈনন্দিন জীবনে কতটা চাপ তৈরি করছে। ভারতীয় ক্রিকেটকে শীর্ষে রাখতে এতটাই মনোযোগী ছিলাম যে নিজের দিকে তাকানোর সময়ই পাইনি।’
নেতৃত্ব ছাড়ার সময় নিজের অবস্থা নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। কোহলির ভাষায়, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় আমি পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না। সবকিছু আমাকে গ্রাস করে ফেলেছিল। সময়টা খুব কঠিন ছিল।’
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে প্রথমবার ভারতের নেতৃত্ব দেন কোহলি। পরে কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতকে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তার নেতৃত্বে টানা পাঁচ বছর আইসিসি টেস্ট মেস জেতে ভারত। এছাড়া ২০১৮-১৯ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ও আসে তার হাত ধরেই।
তবে এই সাফল্যের আড়ালে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিলেন বলেও জানিয়েছেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘নেতৃত্ব মানে শুধু কোচিং নয়, মানুষের মানসিকতা বুঝে সেরাটা বের করে আনা। সেটা করতে গিয়ে নিজের কথা ভাবার সুযোগই থাকত না। কেউ কখনো জিজ্ঞেস করেনি, ‘তুমি কেমন আছ?’’
শেষ পর্যন্ত ফিরে তাকিয়ে কোহলি বুঝতে পারেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিজের খোঁজ নেওয়ার সুযোগই পাননি। আর সেখান থেকেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত তার কাছে সঠিক মনে হয়েছিল।