সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সংস্থা পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি)। বন্যায় ফসল, গবাদিপশু ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য সংস্থাটি জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
‘আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান প্রকল্প (অ্যালার্ট-বি০৭২)’ শীর্ষক এ কার্যক্রমের আওতায় কিশোরগঞ্জের ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার মোট ১ হাজার ২২৫টি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
পিওপিআই জানায়, গত ১৩ মে থেকে সহায়তা কার্যক্রমের প্রথম ধাপের বিতরণ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ মে দ্বিতীয় ধাপের বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বুধবার (২০ মে) হাওরাঞ্চলে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ইটনা উপজেলার মৃগা, জয়াসিদ্ধি, ধনপুর ও বাদলা ইউনিয়ন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার আবদুল্লাহপুর ও পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে বহুমুখী নগদ সহায়তা হিসেবে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্য ১০০ কেজি বা দুই বস্তা গো-খাদ্য এবং প্রতিটি পরিবারকে ১২ ফুট বাই ১৫ ফুট আকারের উন্নত মানের একটি ত্রিপল দেওয়া হচ্ছে।
এবারের সহায়তা কার্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে সংস্থাটি স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর উপকারভোগী নির্বাচন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছে।
পিওপিআই জানায়, কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সবচেয়ে বেশি সহায়তাপ্রাপ্তির যোগ্য পরিবার চিহ্নিত করতে কয়েক ধাপে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কমিউনিটি কনসালটেশন মিটিং বা পরামর্শ সভা আয়োজন করা হয়। পরে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ করা হয়।
এরপর নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে ১৪৬টি ‘টুলবক্স ইন্ডিকেটর’ ব্যবহার করে প্রতিটি পরিবারের বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা করা হয়।
জরিপ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স’ বা ঝুঁকির মাত্রা বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে স্থানীয় জনগণ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বহুমাত্রিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আগামী ফসলের বীজ সংগ্রহ, গবাদিপশু রক্ষা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ত্রাণ নিতে আসা প্রান্তিক কৃষকরা জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও পক্ষপাতহীন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে দুর্যোগের সময়ে নগদ অর্থ ও গো-খাদ্য পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পিওপিআই। আন্তর্জাতিক এ তহবিলে যৌথভাবে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ইউকে এইড, সিডা (সুইডেন), নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জার্সি ওভারসিজ এইড (জেওএ) এবং হিলটন ফাউন্ডেশন।
পিওপিআই বলছে, দুর্যোগকালীন সময়ে আধুনিক প্রযুক্তি, সুনির্দিষ্ট সূচক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততায় বাস্তবায়িত এ মানবিক উদ্যোগ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেয়েছে এবং হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।