শেষ আড়াই বছর ধরে ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। চোট আর ফিটনেস সমস্যায় বারবার থমকে গেছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এমনকি আসন্ন বিশ্বকাপেও তাকে দেখা যাবে কিনা, সেটা নিয়েও ছিল বড় অনিশ্চয়তা। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, বিশ্বকাপের দরজায় আবারও আলো দেখা যাচ্ছে নেইমারের সামনে।
ব্রাজিল দলও এই সময়ে একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে। রদ্রিগো আগেই ছিটকে গেছেন চোটে। এরপর বড় ধাক্কা আসে তরুণ তারকা এস্তেভাও উইলিয়ানকে নিয়ে। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েও ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনায় আছেন। যিনি গত এক বছরে ডান পাশে ব্রাজিলের আক্রমণে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। আনচেলত্তির অধীনে পাঁচ গোল করে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এস্তেভাও না থাকায় এখন কোচকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিবর্তন হিসেবে রাফিনিয়া ডান পাশে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বাঁ পাশে এবং জোয়াও পেদ্রোকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া লুইজ হেনরি ও রায়ানের মতো বিকল্প নামও আলোচনায় আছে।
এই পরিস্থিতিতেই আবার সামনে চলে এসেছে নেইমারের নাম। বয়স, চোট আর অনিয়মিত পারফরম্যান্সের পরও তাকে ঘিরে বিশ্বকাপ দলে ফেরার আলোচনা জোরদার হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ থেকে ৫৩ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান আবারও নেইমারকে জাতীয় দলে দেখতে চান। এমনকি সমর্থকরা ম্যাচে তার নাম ধরে স্লোগানও দিয়েছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাও আনচেলত্তির সঙ্গে আলোচনায় নেইমারের প্রসঙ্গ তুলেছেন বলে জানা গেছে।
আর্সেনালের স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস বলেন, ‘নেইমার নিঃসন্দেহে কৌশলগতভাবে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে এমন ধরনের খেলোয়াড় যে এক মিনিটে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে।’
তবে সাবেক অধিনায়ক কাফু সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা সে কী করতে পারে তা জানি, কিন্তু তার ধারাবাহিক কয়েকটি ম্যাচ খেলা দরকার।’ কিংবদন্তি জিকো আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘নেইমারকে আমি যেমন ভালোবাসি, তেমন খুব কম লোকই ভালোবাসতে পারে, কিন্তু সে এখনো সেই ধারাবাহিকতা খুঁজে পায়নি। কোচই সিদ্ধান্ত নেবেন নেইমার ৭০ বা ৫০ শতাংশ ফিটনেসে জাতীয় দলকে সাহায্য করতে পারবে কিনা।’
সবচেয়ে পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘এটা খুব পরিষ্কার: আমি শারীরিকভাবে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের বেছে নেব।’
তবে নেইমারও হাল ছাড়ছেন না। সম্প্রতি তিনি ১১ দিনে চারটি ম্যাচ পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেছেন। ১৮ মে বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে আরও কয়েকটি ক্লাব ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন তিনি।
এস্তেভাওয়ের চোট না হলে নেইমারের জন্য দরজা প্রায় বন্ধই ছিল। এখন সেই দরজা সামান্য খুলেছে, কিন্তু সেটা পুরো খুলবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে একমাত্র নেইমারের পারফরম্যান্সের ওপর।