বার্সেলোনার নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত নাম লামিন ইয়ামাল। অনেকেই তাকে লিওনেল মেসির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে কাতালান ক্লাবটির ১০ নম্বর জার্সি গায়ে তোলার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে ইয়ামালের নিজের গল্পটা একটু ভিন্ন, তার হৃদয়ের আইডল কিন্তু অন্য কেউ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের অনুপ্রেরণার কথা খোলাসা করেন এই তরুণ। প্রথম লেগে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ২-০ গোলে হারের পর এবার ফিরতি লেগে মেট্রোপলিটানোতে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় হান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের আগে নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল বদলে আলোচনায় আসেন ইয়ামাল। সেখানে জায়গা করে নেন লেব্রন জেমস। ২০১৬ সালের সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক। ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সকে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও শিরোপা জেতানোর গল্প যেন ইয়ামালকে নতুন করে জ্বালানি জোগাচ্ছে।
লেব্রনের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়েই তিনি বলেন, ‘আগামীকালের ম্যাচের জন্য তিনি (লেব্রন) আমার অন্যতম অনুপ্রেরণা, আর সে কারণেই আমি তার ছবি দিয়েছি। তিনি যা করেছিলেন আমি তা নিয়ে ভাবছি এবং আশা করি আমার ক্ষেত্রেও তেমনই কিছু ঘটবে।’
তবে বাস্কেটবল নয়, ফুটবলের মঞ্চেও আছে তার আরেক নায়ক নেইমার। ২০১৭ সালে পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক কামব্যাক এখনো ইয়ামালের মনে গেঁথে আছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ওই ম্যাচটা অনেকবার দেখেছি এবং লাইভও দেখেছিলাম। নেইমার এমন একজন খেলোয়াড় যিনি আমার পুরো শৈশবকে রাঙিয়ে দিয়েছেন। তিনি আমার আদর্শ (আইডল)। ফুটবলে তিনি যা দিয়েছেন তার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যার খেলা দেখার জন্য আপনি টিকিট কাটবেন... আমি আশা করি তিনি (২০২৬) বিশ্বকাপে থাকবেন।’
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বার্সার হয়ে বড় মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন ইয়ামাল। গত মৌসুমে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ইউরোপের মঞ্চে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইন্টার মিলানে বিপক্ষে হেরে। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে তিনি।
প্রথম লেগে আতলেতিকোর কড়া মার্কিংয়ে আটকে গেলেও ফিরতি লেগে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত এই তরুণ। তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট, ‘আমি খুব ভালো বোধ করছি এবং আগামীকালের ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি। আশা করি আমিই পার্থক্য গড়ে দেব। দেখি সিমেওনে আমাকে ওয়ান অন ওয়ান খেলার সুযোগ দিয়ে কোনো উপকার করেন কি না!’