জাতীয় দলের ফুটবলাররা এতদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে কোনো স্থায়ী বেতন পান না। ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে সামান্য ভাতা পেলেও তাদের মূল আয় নির্ভর করে ক্লাব ফুটবলের ওপর। বিশ্ব ফুটবলেও সাধারণত একই চিত্র দেখা যায়। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
সরকার জাতীয় দলে খেলা ফুটবলারদের স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ বিষয়ে কথা বলেন।
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের মেয়ে ফুটবলাররা ভালো পারফর্ম করছেন। মেয়ে ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি পুরুষ ফুটবলারদেরকেও উৎসাহিত করতে হবে। আমরা খেলাধুলাকে যেহেতু পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং আমরা চাই যে ফুটবলে যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই পুরুষ ও নারী সবাইকেই আমরা বেতন কাঠামোর মধ্যে আনবো। আমরা তাদেরকে বেতন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করব।’
সম্প্রতি হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যাওয়ায় জাতীয় দলকে ঘিরে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দর্শক আগ্রহও বেড়েছে। এই জাগরণকে ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘হামজা চৌধুরী থেকে শুরু করে বেশ কিছু খেলোয়াড় তারা বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছেন। যার কারণে আমাদের ফুটবল আগের চেয়ে অনেক দিক দিয়েই সমৃদ্ধশালী একটি জায়গায় যাচ্ছে। এই জাগরণকে ধরে রেখে কীভাবে সামনের দিকে যেতে পারি সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
দীর্ঘদিন ধরেই বাফুফের অন্যতম বড় সমস্যা মাঠ সঙ্কট। নিয়মিত লিগ আয়োজন এবং মানসম্মত ভেন্যু নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয় সংস্থাটিকে। এই সঙ্কট নিরসনে তিনটি স্টেডিয়াম চুক্তির মাধ্যমে বাফুফেকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ফিফার অনুদানে আমাদের ফুটবল ফেডারেশন কিছু মাঠ বরাদ্দ চেয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা আলোচনা সাপেক্ষে তিনটি মাঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ফুটবল ফেডারেশনের কাছে চুক্তির মাধ্যমে আমরা হস্তান্তর করবো। সেই মাঠগুলো হচ্ছে আমাদের কমলাপুর স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম।’
এ বিষয়ে আরও যোগ করে তিনি বলেন, ‘এই তিনটি মাঠকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির মাধ্যমে আমরা ফুটবল ফেডারেশনকে বরাদ্দ দেবো। সেটার সার্বিক অর্থায়ন করবে এবং এটার গ্যালারি থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে আরও উন্নয়নশীল করা যায়, কীভাবে ভালো পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেটি ফিফার থেকে একটি অনুদানের মাধ্যমে সেটি করা হবে।’