জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি, তার উপর শেয়ার বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সামাদুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি বাংলা টিভির শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের নামে অর্থ লেনদেন, সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ, অফিস ভাড়া বকেয়া রাখা, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন, ‘বাংলা টিভি লিমিটেডের এমডি সৈয়দ সামাদুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।’
সে সময় দুদক জানায়, সৈয়দ সামাদুল হক ৪ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৫৬ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। অপরাধলব্ধ অর্থের মধ্যে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪ টাকার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও তা রূপান্তর দেখিয়ে বৈধ হিসেবে প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করছে।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানে সৈয়দ সামাদুল হকের নামে ৪ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৫৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, সৈয়দ সামাদুল হকের মোট প্রাপ্ত সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৪১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭১ টাকা। এর বিপরীতে সম্পদ অর্জনে তার বৈধ আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার ৯০৮ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৩ টাকা। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দুদকের বিশেষ তদন্ত শাখা সৈয়দ সামাদুল হকের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল বিশেষ তদন্ত শাখা বিষয়টি আমলে নেয় এবং পরবর্তীকালে ৬ মে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সৈয়দ সামাদুল হকের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের জন্য দুই সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। সেখানে তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার তল্লাবাগ ও সোবহানবাগের দুটি ঠিকানা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৮ মে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশে বাংলা টিভির এমডিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কেনাবেচার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণের জন্য সৈয়দ সামাদুল হককে হাজির হতে বলা হয়। ওই নোটিশে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে ওই বছরের ৭ জুন দুদকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
একদিকে দুদকের মামলা, অন্যদিকে শেয়ার কেলেঙ্কারি অভিযোগ ও কর ফাঁকির একাধিক ঘটনাই প্রমাণ করে বাংলা টিভির এমডি সামাদুল হকের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অত্মসাতের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সামাদুল হকের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভি সংশ্লিষ্ট শেয়ার হস্তান্তর চুক্তি, অর্থ লেনদেনের নথি, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, দুদকের নথি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণে এমন সব চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
তবে সম্প্রতি বাংলা টিভির মালিকানা ও শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সামনে এসেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে বাংলা টিভির মালিকানা ও শেয়ার হস্তান্তর বিষয়ে একাধিক অভিযোগ ও আবেদন জমা পড়েছে। সূত্র জানায়, আবেদনে বলা হয়েছে বাংলা টিভি লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তর কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক তার মালিকানাধীন ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার কয়েকজন পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীকালে আরও ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং এর বিপরীতে কয়েক কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন না পাওয়ার কারণে লেনদেন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র জানায়, দিনাজপুর-৩ আসনের বিএনপি নেতা, শিল্পপতি হাফিজুর রহমান সরকার বাংলা টিভির শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। প্রায় ১৮ বছর আগে বাংলা টিভির শেয়ার কিনতে তিনি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার নামে শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তর বিলম্বের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণ দেখানো হয়েছে। বিনিয়োগকৃত অর্থও এখন পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি।
এর আগে ২০২৩ সালের ৩ জুন বাংলা টিভির এমডি ও পরিচালকসহ ৫ জনকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ সময় বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মালিকদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ ওঠে। জানা গেছে, বাংলা টিভির শেয়ার হস্তান্তরের নামে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও তার রাজস্ব দেওয়া হয়নি। সে সময় বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন সৈয়দ সামাদুল হক, চেয়ারম্যান কে এম আখতারুজ্জামান, পরিচালক মীর নূর উস শামস শান্তনু, কে এম রিফাতুজ্জামান ও ভাইস চেয়ারম্যান বিটিভির সাবেক সংবাদ পাঠক মনিরুল ইসলাম।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) এ সংক্রান্ত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বাংলা টিভি নামে বাংলাদেশে সম্প্রচারিত স্যাটেলাইট টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক, প্রতিষ্ঠানটির চালুর পর থেকেই যন্ত্রপাতি আমদানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পযায়ে কৌশলে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। সৈয়দ সামাদুল হক ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলা টিভি নামে একটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে সেই টিভি চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রয়াত সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর মাধ্যমে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বাংলা টিভি নামে একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের অনুমোদন নেন।
সে সময় টেলিভিশনটি পরিচালনার জন্য সিলেটের ব্যবসায়ী রাগীব আলীকে চেয়ারম্যান করা হয়। তার কাছ থেকে শেয়ার বিক্রির নামে কয়েক কোটি টাকা নেন সামাদুল হক এবং রাজধানীর রমনা থানার সিদ্ধেশ্বরীতে রাগীব আলীর একটি ভবনে টেলিভিশনের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। কিন্তু বিনিয়োগকৃত সেই অর্থের কোনো কর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় রাগীব আলী কারাগারে গেলে ব্যবসায়ী আখতার ফার্নিচারের মালিক কে এম আখতারুজ্জামান, তার ছেলে কে এম রিফাতুজ্জামান ও বিটিভির সংবাদ পাঠক মনিরুল ইসলামের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হয়।
ওই সময়ে টিভি চ্যানেলটির শেয়ার বিক্রির নামে কয়েক দফায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা নেন সামাদুল হক। এর মধ্যে মাত্র কয়েক কোটি টাকা টিভিতে বিনিয়োগ দেখালেও বাকি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেন। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। এছাড়া, বিজ্ঞাপনবাবদ আয় কম দেখিয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি তা পাচার করে আসছেন সামাদুল হক। বাংলা টিভিতে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিলেও এ খাত থেকে আয়ের বিপরীতে এক টাকাও রাজস্ব দেওয়া হয়নি। প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নিয়োগের নামে অর্থ নিলেও কোনো প্রতিনিধিকে বেতন-ভাতা প্রদান দূরে থাক, নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি। কোটি কোটি টাকা আয় করলেও সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিতে প্রতিষ্ঠানকে লোকসানি দেখিয়ে মাসের পর মাস কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়নি।
সে সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বাংলা টিভির শেয়ার বিক্রির অনিয়মের বিষয়টি সরকারের নজরে এলে শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। যে কারণে বাংলা টিভি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন অবধি শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে, সৈয়দ সামাদুল হক নিজেও দুদকের কাছে জমা দেওয়া এক লিখিত আবেদনে দাবি করেন, তিনি একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালে লন্ডনে বাংলা ভাষার স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘বাংলা টিভি’ প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুদককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দুদকের কাছে আবেদন করেন।
তবে শুধু শেয়ার বিতর্ক নয়, রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় বাংলা টিভির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি নিয়েও বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির মালিকের সঙ্গে ভাড়াটিয়া হিসেবে সৈয়দ সামাদুল হকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভবন ছাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ভাড়া বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ বকেয়া রয়েছে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এছাড়াও, সামাদুল হকের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় জুলাই গণহত্যার দুটি মামলা রয়েছে। এই মামলা দুটিতে বাংলা টিভির পরিচালক এবং রেজিস্ট্রি কোম্পানিমূলে বাংলা টিভির অন্যতম শেয়ারের মালিক সামাদুল হকের ভাগনে মীর নূর উস শামস শান্তনুও আসামি হিসেবে রয়েছেন।
এদিকে, মীর নূর উস শামস সান্তনুর মূল কাজ বিজ্ঞাপন ম্যানেজারের সঙ্গে কারসাজি করে অর্থ আত্মসাৎ। ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কর্মীরা মাসের পর মাস বেতন না পেলেও এমডিকে মাস শেষে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বাকি টাকার বেশিরভাগই আত্মসাৎ করেন শান্তনু। দুদকে পাঠানো অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলা টিভির অনিয়ম-দুর্নীতির মূল কারিগর বিজ্ঞাপন বিভাগের ম্যানেজার চয়ন কুমার কুন্ডু। শুরুতে সেলসম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেও কয়েক বছরের মধ্যে ম্যানেজারের পদ বাগিয়ে নেন। মূলত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের আয় এবং কম টাকায় সিনেমা কিনে, তা বেশি দাম দেখিয়ে বিক্রি করে সেখান থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন বাণিজ্য করাই তার কাজ।
এছাড়া ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দিনাক সোহানী বাংলা টিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হলেও তার মূল পরিচয় তিনি বাংলা টিভির মালিক সৈয়দ সামাদুল হকের স্ত্রী। মূলত অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চ্যানেলের অধিকাংশ বাজেট ও অর্থ আত্মসাৎ করাই তার প্রধান কাজ। টাকার বিনিময়ে যাকে খুশি প্রেজেন্টার হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। মাসের পর মাস প্রেজেন্টারদের কোনো বেতন বা সম্মানি দেওয়া হয় না। উল্টো নিজে টক শো উপস্থাপনার নামে গেস্ট ও অতিথিদের সম্মানি না দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। এজন্য বার্তা বিভাগের প্রধান জহিরুল ইসলাম টুকুকে টকশো উপস্থাপনা থেকে সরিয়ে দিয়ে টিভি চ্যানেলের বাইরের লোক দিয়ে টকশো উপস্থাপনা করান দিনাক সোহানি।
এসব বিষয়ে বাংলা টিভির এমডি সৈয়দ সামাদুল হক শনিবার নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলে সেটা পুলিশকে জানিয়ে দিন। পুলিশ আমাকে অ্যারেস্ট করুক। এইটা দেখার দায়িত্ব আপনার না। আমি ৪০ বছর ধরে দেশে এবং বিদেশে সাংবাদিকতা করি। এসব নিউজ নিয়ে আমার সঙ্গে ফাজলামো করবেন না।’
এসব বিষয়ে বাংলা টিভির অন্যতম পরিচালক মীর নূর উস শামসকে ফোন করা হলে তিনি নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘এসব বিষয়গুলো ভুয়া, মিথ্যা। আমাদেরই বিরোধী একটা গ্রুপ আছে, তারা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনি অফিসে আসেন, আপনার সঙ্গে কথা বলি।’
আপনি এবং আপনার মামা সৈয়দ সামাদুল হক জুলাই হত্যা মামলার আসামি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা। আমাদের বিরোধী গ্রুপটা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’