ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, আগামী এক দশকের মধ্যে টিভির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর জায়গা দখল করবে স্মার্টফোন।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, টিভির বাজার ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে, কারণ দর্শকদের একটি বড় অংশ এখন বিনোদন ও তথ্যের জন্য মোবাইলনির্ভর হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিভিশনের কিছু স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি স্থির একটি যন্ত্র, সহজে বহন করা যায় না এবং ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে এটি ব্যবহার করতে পারেন না। অন্যদিকে স্মার্টফোন সব সময় হাতের নাগালে থাকায় এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় স্মার্টফোনের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও স্মার্টফোন এগিয়ে। টেলিভিশনে মূলত রিমোটের মাধ্যমে সীমিত নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়। কিন্তু স্মার্টফোনে একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা, অনলাইন যোগাযোগ ও বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া টেলিভিশনে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান দেখতে হয়। বিপরীতে স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের কনটেন্ট ডাউনলোড বা সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে দেখতে পারেন। ফলে অন-ডিমান্ড কনটেন্ট ভোগের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ডিভাইসের গুরুত্বও বাড়ছে।
তবে সব বিশ্লেষক একমত নন। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, বড় পর্দায় বিনোদন উপভোগের অভিজ্ঞতা এবং গৃহস্থালি বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে টেলিভিশনের এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নিকট ভবিষ্যতে টিভি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিনোদন ও তথ্যপ্রযুক্তির জগতে স্মার্টফোনের প্রভাব যত বাড়ছে, টেলিভিশনের প্রচলিত অবস্থান ততটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।