২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতারা প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেন।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে জামায়াত। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে বাজেট বিষয়ে দলের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এবারের বাজেটের আকার বড় হলেও এটি অতিমাত্রায় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর। জনমুখী সংস্কার এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের কোনো সুস্পষ্ট প্রতিফলন এতে নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় এবং কর সংস্কার ও রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বাজেটে দেখা যায়নি।’
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘অতীতের মতো এবারও উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু তা অর্জনের বাস্তবভিত্তিক পথনকশা অনুপস্থিত।’
মোট বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালন ব্যয়, বেতন-ভাতা ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় এটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতার পরিচায়ক।’
তিনি বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য হলেও শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার ও বরাদ্দ এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।’ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এর বড় অংশ রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটে ধনীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর করের চাপ আরও বাড়বে। এক বোতল পানির ওপর ভ্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটিপতি ও রিকশাচালকের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখা হয়নি, যা করব্যবস্থার বৈষম্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।’
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ বাড়ানো হলেও দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও কাঠামোগত বিনিয়োগের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’