রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বাসটি যখন নদীতে পড়ে যাচ্ছিল, তখন চালক ঝন্টু আলী (৪৭) ও হেলপার সাকিব হোসেন (২৭) বাসের ভেতরে ছিলেন। তবে বাসটি পানিতে পড়ার আগেই ঝন্টু আলী তার হেলপার সাকিবকে নামতে বলেন। এরপর সাকিব বাস থেকে লাফ দিয়ে নেমে গেলেও বাসের ভেতর ছিলেন ঝন্টু আলী।
বাস নদীতে আকস্মিকভাবে পড়ে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে বাসের চালক মো. ঝন্টু আলী বলেন, ‘বাসটি কুষ্টিয়া কাউন্টার থেকে ছেড়ে আসি সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে। আমি ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট পৌঁছাই। আমরা ঘাটে এসে বাস থেকে সকল যাত্রীকে নামিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘যাত্রী নামিয়ে আমি এবং আমার হেলপার যখন গাড়ি নিয়ে সংযোগ সড়ক দিয়ে পন্টুনের দিকে আগাই তখন অল্প একটু যাওয়ার পরে আমি যখন গাড়ির ব্রেকে পা দেই, তখন দেখি গাড়ির ব্রেক হচ্ছে না। তখন আমি হেলপারকে বললাম গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে। তখন গাড়ির গতি আরও বেড়ে যায়। গাড়ি পন্টুনের ওপরে উঠে ব্যারিকেড ভেঙে গাড়িটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় গাড়ির মধ্যে আমি একাই ছিলাম, কোনো যাত্রী ছিল না। হেলপার আগেই লাফ দিয়ে নেমে গিয়েছিল। বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে কিনারে এলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপরে উঠে আসি।’
দুর্ঘটনার পর বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে নৌ পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ব্রেক ফেল করে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় মোট ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।