জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে আপিল শুনানিতে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসি সূত্র জানায়, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমার বিরুদ্ধে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে যথাযথভাবে পদত্যাগ না করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে অভিযোগ করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।
এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমার মনোনয়নের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইসি। রোববার (২৬ এপ্রিল) আপিল আবেদন জমা দেওয়ার রাতেই ইসি পরিচালক গনসংযোগ রুহুল আমিন মল্লিক আবেদনের ব্যাপারে নিশ্চিত করলেও জানিয়েছিলেন যে, তারা তখনো নথি হাতে পাননি। সোমবার নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত আপিল শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, অভিযোগকারী এই নির্বাচনে কোনো সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা বৈধ পক্ষ নন। পাশাপাশি আপিল আবেদনে আইনি ত্রুটি থাকায় তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। মাধবী মারমার দাখিল করা পদত্যাগপত্র পর্যালোচনায়ও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে তার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়।
একই কারণে বিএনপির আরেক প্রার্থী জীবা আমিন খানের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনও খারিজ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, আপিলকারী প্রার্থী না হওয়ায় আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। এতে জীবা আমিন খানের প্রার্থিতাও বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করেছে ইসি। তার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তার মনোনয়ন বাতিলই থাকছে।’
এর আগে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় গত ২৫ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেন। প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মনিরা শারমিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টে যাব। আইনের অস্পষ্টতার কারণে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ব্যাহত হওয়া উচিত নয়।’
অন্যদিকে প্রার্থিতা বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাধবী মারমা। তিনি বলেন, ‘আমি আইন মেনেই সময়মতো জেলা পরিষদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলাম। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। সত্যের জয় হয়েছে।’
তবে শুনানি শেষে চন্দ্রা চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিতে বলা হয়েছে, আপিল আবেদনকারীকে সংক্ষুদ্ধ প্রার্থী হতে হবে, ব্যক্তি না। এটা আইনে আছে বলে আমাকে বলা হয়েছে। এটার কারণে আমার করা আপিলটি গ্রহণ হয়নি। এখন আমরা হাইকোর্টে যাব।’