জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল প্রতিক্রিয়া জানাননি, বরং ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসা’ সংক্রান্ত অভিযোগকে তিনি শুধু নাকচই করেননি, বরং এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি নিজেদের অবস্থানকে বৈধতা দিতে চাইছে ও যেকোন ধরনের কারচুপির অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। দ্বিতীয়ত, তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি ইঙ্গিত দেন, ৫ আগস্টের পর যে নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা বা বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এই সুযোগ নষ্ট হলে আবারও স্বৈরাচারী প্রবণতা ফিরে আসার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেওয়া, সুযোগকে নষ্ট করা, আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পায়তারা তারা করছে কি না সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কি না সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।