সংরক্ষিত নারী আসন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার ভিত্তিতে তারা মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী থেকে আট জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে দুই জন ও অন্য শরিক দলগুলো থেকে দুই জন প্রার্থী রাখা হয়েছে। বাকি একটি আসন জুলাই শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধিকে দেওয়া হয়েছে। শরিকদের মধ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন রয়েছেন।
জামায়াতের মনোনীতরা হলেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম ও ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ।
এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মনিরা শারমিন ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু। এ ছাড়া জাগপা থেকে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এবং জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয় পায়। এর ভিত্তিতে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে জোটটি ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি জোট পেয়েছে ৩৬টি ও স্বতন্ত্ররা ১টি আসন পেয়েছে।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে ও প্রার্থীদের ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
তালিকার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের অন্তর্ভুক্তি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ছয় বছর বয়সী জাবির।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় জোটের শরিক দলগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।