দেশাত্মবোধ ও ঐতিহ্যের আবহে বিদেশি সংস্কৃতি পরিহার করে নাচ-গানসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেছে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনা পার্কে ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে জাসাসের নিজস্ব শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। আয়োজনের সমন্বয় করেন সংগীতশিল্পী ও জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ইথুন বাবু।
এবারের বৈশাখী স্লোগান ছিল—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। জাসাস নেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। বিএনপির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনে ব্যস্ত থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন বলেন, দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরে আয়োজন করতে পেরে তারা আনন্দিত। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এমন আয়োজন চলছে। দর্শনার্থীরা ভাওয়াল ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করছেন।
যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফারহাদ হোসেন নিয়ন বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুত্থিত হয়েছে, আর নববর্ষের এই উচ্ছ্বাস তারই প্রতিফলন। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’র বিজয়ী শিশুদের দিয়েও অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে।
অন্যদিকে নৃত্যশিল্পী ফারজানা চৌধুরী বেবী জানান, আগে ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বেশি থাকলেও এখন দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বেড়েছে। সামনে নজরুল জয়ন্তীও জাঁকজমকভাবে উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মতভেদ থাকলেও থাকবে ঐক্য ও শান্তি।
এদিকে রমনা পার্কজুড়ে বর্ষবরণের উৎসবে ভিড় জমিয়েছে নানা বয়সী মানুষ। জাসাসের পাশাপাশি পরিবাগ তরুণ সংঘ ও দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগেও চলছে বিভিন্ন পরিবেশনা। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীরা উৎসব উপভোগ করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পার্কের প্রবেশপথগুলোতে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অশ্বারোহী দলসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য টহলে নিয়োজিত রয়েছে।