সংসদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘খিচুড়ি’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেছেন, রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির এবং বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের—এমন এক ধরনের সংসদ তৈরি হয়েছে। তবে যে খিচুড়ির মধ্যে আওয়ামী লীগ থাকবে, সেই খিচুড়ি বাংলাদেশের মানুষ খাবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর কাটাবনের সুপার কিচেন রেস্তোরাঁয় ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, অতীতে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তখন রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ধৈর্য ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাদের আওয়ামী লীগের সহযোগী বলা হতো, তাদেরই আবার ক্ষমতার কাছে জায়গা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে যদি এই সংকটের সমাধান না হয়, তাহলে হয়তো রাজপথেই এর ফয়সালা হবে। তখন কেউ যেন প্রশ্ন না তোলে কেন মানুষ বঙ্গভবনের সামনে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করে নির্বাচনী প্রকৌশল বা বিদেশি শক্তির সমর্থনে সংসদ দখল করা যাবে, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। বাংলাদেশের মানুষ কোনো অন্যায়ের বৈধতা মেনে নেবে না।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী কথা বলার অধিকার সবার রয়েছে। যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন সত্য কথা বলব। কারণ কথাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে এখনো অনেকে এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে চান না। অথচ বাস্তবতা হলো—দেশে দুটি বড় সংকট রয়েছে। একটি সার্বভৌমত্বের সংকট, অন্যটি ইসলামী সংকট। দিল্লির আধিপত্যবাদী শক্তি এই দুই জায়গাতেই বাংলাদেশকে আঘাত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উচিত যারা ২৪-এর আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন—আমাদের ভাই ও বোনেরা—তাদের জন্য দোয়া করা। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকামে স্থান দান করেন। বিশেষভাবে শহীদ উসমান হাদির জন্য দোয়া করি। একই সঙ্গে শাপলা চত্বরে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও আমরা স্মরণ করি।
বক্তব্যের শেষ দিকে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, এই দুই সংকটের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হলেও তারা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রস্তুত আছেন। মর্যাদা, ইসলাম ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না—ইনশাআল্লাহ।
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মূলধারায় আসতে পারে না। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা। উপমহাদেশে মুসলমানদের ঈমান, আখলাক ও তাজকিয়ার যে ধারা এখনো টিকে আছে, তার পেছনে এই শিক্ষা ব্যবস্থার বড় অবদান রয়েছে। ইতিহাসে এই শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে।